
Sir Walter Scott |
Famous works:
|
- He was a Scottish historical novelist, playwright, and poet.
- He is called the 'Father of both the Regional and Historical Novels."
- Ivanhoe (ইভান হো) তার শ্রেষ্ঠতম উপন্যাস (ঐতিহাসিক)
His well-known works:
- Ivan Hoe (novel) ('আইভানহো')
- Patriotism (poem)
- The Talisman (দ্য ট্যালিসম্যান')
- The Lady of the Lake (novel)
- Waverley
- The Heart of Midlothian ('দ্য হার্ট অব মিডলোথিয়ান')
- The Bride of Lammermoor. (দ্য ব্রাইড অব লামারমুর')
- Rob Roy
'দ্য হার্ট অব মিডলোথিয়ান' (The Heart of Midlothean) :
উপন্যাসটির প্রকাশকাল ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দ। এডিনবরার পুরতন কারাগারের নাম 'দ্য হার্ট অব মিডলোথিয়ান'। এই নাম থেকেই স্কট এই উপন্যাসটির নামকরণ করেন। ঘটনাস্থল ইংল্যান্ড। ১৭৩৬ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত পটুয়াস দাঙ্গার কথা দিয়েই কাহিনী শুরু হয়। নগরী বাহিনীর প্রধান ক্যাপ্টেন জন পটুয়াস যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই উইলসন নামে এক দস্যুর ফাঁসা দেখতে সমাগত জনতার উপর তার বাহিনীকে গুলি ছুঁড়তে আদেশ দেয় এবং নিজেও গুলি ছোঁড়ে। বিচারে তার প্রাণদণ্ডের আদেশ হয়, কিন্তু পরে ক্ষমা লাভ করে। উইলসনের সহযোগী রবার্টসনের নেতৃত্বে একদল ক্রোধোন্মত্ত জনতা সেই কারাগার ভেঙ্গে পটুয়াসকে বের করে নিয়ে আসে এবং তাকে দড়িতে ঝুলিয়ে দেয়। এই ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে এবং এফিডিনসের এক সত্য ঘটনাও স্কট যুক্ত করে দেন উপন্যাসের কাহিনীর বুননে। রবার্টসন, প্রকৃত নাম জর্জ স্টানটোন ছিল এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের বেপরোয়া যুবক এফিডিনসের প্রেমিক। এফিডিনস শিশুহত্যার দায়ে ঐ কারাগারে বন্দী ছিল। ঐ কারাগার ভাঙ্গার পরিকল্পনার পেছনে রবার্টসনের আর একটা উদ্দেশ্য ছিল এবং তা হচ্ছে এফিডিনসকে যুক্ত করা। কিন্তু এফি এভাবে পালাতে অস্বীকার করে। এফির বিচার হয়। এফির সৎবোন জেনি এফির মুক্তির স্বার্থে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করে। বিচারে এফির প্রাণদণ্ডের আদেশ হয়। হাঁটতে হাঁটতে জেনি লন্ডনে গিয়ে উপস্থিত হয় এবং আরগিলের ডিউকের সহায়তায় রানি ক্যারোলিনের সাক্ষাৎ লাভ করে। জেনি তার ঐকান্তিকতা ও মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহারে রানিকে সন্তুষ্ট করে বোন এফির জন্য রাজকীয় ক্ষমা লাভ করে। ডিউকের অনুগ্রহে জেনি তার প্রেমিক প্রেসবিটারিয়ন মন্ত্রী রুবেন বাটলারকে বিয়ে করতে সম্মত হয়, জেনির পিতা ডিউকের জমিদারিতে একটা ভালো পদেও নিযুক্ত হন। এফিও তার প্রিয়তমাকে বিয়ে করে হয় লেডি স্টানটোন। এর পর জানা যায় যে শিশুহত্যার দায়ে যে অভিযুক্ত হয়েছিল সে প্রকৃতপক্ষে জীবিত। এক অপ্রকৃতিস্থ মহিলা কর্তৃক শিশুটি অপহৃত হয় এবং দস্যুদলের হাতে পড়ে। জেনির স্বামী স্যার জর্জ স্টানটোন তার খোঁজ পাওয়া পুত্রটিকে উদ্ধারের চেষ্টায় আকস্মিকভাবেই ঐ দস্যুদলের কাছে এসে উপস্থিত হয়। এবং এক খণ্ডযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এক দস্যুর হাতে নিহত হয়। ঐ দস্যু আর কেউ নয়, সে তারই হারিয়ে যাওয়া ছেলে।
'আইভানহো' (Ivanhoe) :
উপন্যাসটির প্রকাশকাল ১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দ। ঘটনাস্থল ইংল্যান্ড। উপন্যাসের পাত্র-পাত্রীগণও ইংল্যান্ডের অধিবাসী। প্রথম রিচার্ডের সমকালীন স্যাক্সন এবং নর্মানদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব সংঘাত উপন্যাসটির পটভূমিকা রচনা করেছে।
স্যাক্সন বংশোদ্ভূত অভিজাত পরিবারের সন্তান আইভানহো। আইভানহো পিতা সেড্রিকের আশ্রিতা রাওয়েনাকে ভালোবাসেন। রাওয়েনা রাজা আলফ্রেডের বংশোদ্ভূত, সেজন্য পিতা সেড্রিক চান স্যাক্সন রাজবংশের কোন একজনের সঙ্গে রাওয়েনার বিয়ে হোক। এই নিয়ে মতভেদ হওয়ায়, রাগের মাথায় পিতা পুত্রকে নির্বাসিত করেন। আইভানহো রাজা প্রথম রিচার্ডের সঙ্গে ধর্মযুদ্ধে যোগদান করেন। রাজা রিচার্ডের শত্রু তাঁর ভাই জন। জন রিচার্ডকে সিংহাসনচ্যুত করতে চায়। আইভানহোর সাহায্যে রিচার্ড শত্রুদের পরাজিত করেন। কিন্তু তিনি আহত হন। আইভানহো আহত হওয়ায় তাঁকে শুশ্রূষা করে বাঁচিয়ে তোলেন আইজাক- এর মেয়ে রেবেকা। পরে যখন দুর্বৃত্তেরা রেবেকার সর্বনাশ করতে কৃতসঙ্কল্প, তখন আইভানহো তাকে রক্ষা করেন। আইভানহোর প্রতি রেবেকার প্রেম ভীরু কৃষ্ণকলির মত। না ফুটেই ঝরে পড়ল। আইভানহোর সঙ্গে রাওয়েনার মিলন হলো।
সে যুগে ব্যক্তিত্বকে ছাপিয়ে প্রতিবেশেরই প্রাধান্য ছিল। প্রেম ছিল বীরাচারের অনুপন্থী। তাই তাঁদের প্রেমচিত্র বর্ণহীন, মামুলী ও কৃত্রিম রীতির আদর্শে আড়ষ্ট। সম্ভ্রান্ত বংশীয় নায়ক-নায়িকার প্রেম নিবেদন একেবারে ছকে বাঁধা। আইভানহো রাওয়েনার সমস্ত আচরণ ও সংলাপ শ্রেণি প্রতিনিধিমূলক। তাঁদের নিজেদের ব্যক্তিগত কথা বড় একটা শোনা যায় না। তবু উপন্যাসে রেবেকা নিন্দনীয় ইহুদি জাতির মেয়ে হওয়ায় তাঁর অবস্থা বৈগুণ্যের জন্য চরিত্রটি অনেকটা প্রাণবন্ত হয়েছে।
বাংলা উপন্যাসের ক্ষেত্রে বঙ্কিমচন্দ্র অনেকটা স্কটের ঐতিহাসিক উপন্যাসের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। বঙ্কিমের উপন্যাসের ইতিহাস কল্পনানুরঞ্জিত ও আদর্শধর্মী। 'দুর্গেশনন্দিনী'তে 'আইভানহোর'র প্রভাব নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলে থাকেন। কিন্তু বঙ্কিম একে কোনদিনই আমলে নেননি। অথচ অনেকেই বঙ্কিমকে 'বাংলার স্টট' এই আখ্যায় অভিহিত করেন।
'দ্য ব্রাইড অব লামারমুর' (The Bride of Lamarmoor) :
উপন্যাসটির প্রকাশকাল ১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দ। স্যার ওয়াল্টার স্কট রোমান্টিক যুগের একজন শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক। স্কটের উপন্যাস পড়তে পড়তে যা প্রথমেই অনুভব করা যায়, তা হচ্ছে তাঁর গল্প বলার ক্ষমতা।
স্কটের 'দ্য ব্রাইড অব লামারমুর' উপন্যাসের স্যার রেভনম্বুড় খানিকটা অতিনাটকীয় চরিত্র। ১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জন্য তিনি রাজকোপে পড়েন। শুরু হয় বিড়ম্বনা, বিপর্যয়, সেই নিয়তি-বিড়ন্বিত অবস্থা, নিদারুণ আর্থিক অনটনের মধ্যেও তাঁর মর্যাদা রার ব্যর্থ প্রয়াস এবং প্রেমের ব্যাপারেও বিপর্যয়কে রোখবার ব্যর্থ প্রচেষ্ট তাঁকে এক অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী করেছে। এই লামারমুরের বধূ-প্রসঙ্গ রয়েছে রবীন্দ্রনাথের 'পঞ্চভূত' গ্রন্থের 'নরনারী' প্রবন্ধে। সেখানে পাই- "লামারমুরের নায়িকা আপনার সকরুণ সচল সুকুমার সৌন্দর্যে যতই আমাদের মনোহরণ করুক না কেন, রেভনম্বুডের বিষাদঘনঘোর নায়কের নিকট হতে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া লইতে পারে না।” শত্রুকে মৃত্যুমুখ থেকে উদ্ধার করেছিলেন যুবক রেভনম্বুড়। আর ঐ শত্রু কন্যার সঙ্গে হয়েছিল তাঁর ভালবাসা। কিন্তু মিলন হলো না। কুচক্রীর ষড়যন্ত্রে মেয়েটির বিয়ে অন্যত্র। রেভনসুড্ ছুটলেন তাঁকে উদ্ধার করতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত" ঠিক সময়ে পৌঁছুতে পারলেন না। মেয়েটি উম্মাদিনী হয়ে আত্মহত্যা করে। লর্ড রেত্নম্বুড সত্যই ভাগ্যবিড়ম্বিত।
একটা চমৎকার গল্প বলার মতার জন্যই এই উপন্যাসটি পাঠকমনকে আকর্ষণ করে। উপন্যাসের শুরু থেকেই পাঠকমনের কৌতূহল একটার পর একটা ঘটনার আঘাতে ক্রমশ বেড়ে চলে এবং ঘটনার বিয়োগান্তক পরিণতি পরিণামে পাঠক মনকে আবিষ্ট করে রাখে।
'দ্য ট্যালিসম্যান' (The Talisman) :
উপন্যাসটির প্রকাশকাল ১৮২৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তীর্থনগর জেরুজালেম-উদ্ধারার্থ খ্রিষ্টানদের সামরিক অভিযান বা জেহাদকে বলা হয় ধর্মযুদ্ধ। উপন্যাসের কাহিনী ইতিহাসের ছায়া অবলম্বনে রচিত।
ইংল্যান্ডের রাজা সিংহ হৃদয় রাজা রিচার্ডের (Richard the Lion-Hearted) নেতৃত্বে ধর্মযোদ্ধাদের (Crusaders) এক বিরাট বাহিনী জেরুজালেমে শিবির সংস্থাপন করে অবস্থান করছিল। কিন্তু রিচার্ডসহ অন্যান্য দলপতিদের মধ্যে পারস্পরিক মতানৈক্য এবং ঈর্ষায় তাঁদের মধ্যেই চলছিল ছিন্নভিন্ন অবস্থা। ওঁদের মধ্যেকার এই অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরো ঘণীভূত করল রিচার্ডের অসুস্থতা। ফলে সৈন্যগণও ক্রমশ" শক্তিহীন হয়ে পড়তে আরম্ভ করল।
স্যার কেনেথ বা লিওপার্ডের নাইট (Kinght) ধর্মযোদ্ধা সেই সময় শিবির থেকে দূরে সারাসনের আমীরের সঙ্গে যুদ্ধরত ছিলেন, সেই যুদ্ধ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছবার আগেই আমীরের সঙ্গে তাঁর বসল দীর্ঘ আলোচনা বৈঠক। এর ফলে উভয়ের মধ্যে গড়ে উঠল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতা। এই আমীর সলদানের প্রেরিত চিকিৎসকের ছদ্মবেশে অসুস্থ রিচার্ডের নিকট খ্রিষ্টান শিবিরে এসে উপস্থিত হন এবং রিচার্ডকে সুস্থ করে তোলেন। ইতোমধ্যে একদিন লিওপার্ডের নাইট স্যার কেনেথকে রাত্রিতে ইংরেজ শিবিরের পতাকা রক্ষা দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু রিচার্ডের পত্নী রানি বেরেনগারিয়া একটা বিশেষ খবরের কথা বলে তাকে সেখান থেকে খেলাচ্ছলে ডেকে নিয়ে আসেন। স্যার কেনেথের সেই স্বল্পকালীন অনুপস্থিতির অবসর তার প্রভুভক্ত শিকারী কুকুরটি আহত হয় এবং ইংরেজ পতাকা হয় ছিন্নভিন্ন। ফলে স্যার কেনেথ অপমানিত হন এবং ঐ মূল চিকিৎসকের সহায়তায় রিচার্ডের আদেশে প্রাণদণ্ড থেকে কোনক্রমে রক্ষা পান। ছদ্মবেশী চিকিৎসক এই আমীর স্যার কেনেথকে ক্রীতদাস হিসেবে রিচার্ডের কাছ থেকে গ্রহণ করেন। আমীর এর সঙ্গে অবশ্য সদয় এবং সম্ভ্রমপূর্ণ ব্যবহারই করেন এবং একজন কৃষ্ণকায় বোবা পরিচারকের ছদ্মবেশে তিনি স্যার কেনেথকে তাঁর প্রাণ-রক্ষাকর্তা রিচার্ড সকাশে প্রেরণ করেন। রিচার্ড তীক্ষ্মদৃষ্টিতে ছদ্মবেশে তিনি স্যার কেনেথকে চিনতে পারেন এবং স্যার কেনেথের প্রার্থনা মত ঐ ইংলিশ পতাকা ছিন্নভিন্ন এবং শিকারী কুকুরকে আহত করার জন্য কে দায়ী তা খুঁজে বের করবার একটা সুযোগ দেন। একদিন খ্রিষ্টান রাজবংশীয় পুরুষগণ, সেনাপতিবর্গ ও সৈন্যগণ সমবেত হয়ে যখন পুনঃসংস্থাপিত ইংরেজ জাতীয় পতাকা অভিবাদন করল, সেই সময় শিকারী কুকুরটি অশ্বারোহী মনফারাটের কনরেড (Conrade of Montferrat) এর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্যার কেনেথ এবং মনফারাটের মধ্যে হয় দ্বন্দ্বযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে মনফারাট হন আহত এবং পরাজিত। এই সঙ্গে এও জানা যায় যে স্যার কেনেথ হচ্ছেন আসলে স্কটল্যান্ডের যুবরাজ ডেভিড। এর ফলে স্যার কেনেথ- এর সম্ভ্রান্ত বংশীয় পূর্ব প্রণয়ী এডিথ প্লান্টাজেনেটের সঙ্গে মিলনের বাধাও দূর হয়।
ট্যালিসম্যান অর্থ রাকবচ। এটা হচ্ছে মন্ত্রপূত" কবচ, যা দিয়ে আমির রিচার্ডকে রোগমুক্ত করেন এবং যা স্যার কেনেথকে দান করেন। এর সাহায্যেই স্যার কেনেথ সমস্ত বিপদ-আপদ থেকে ত্রাণলাভ করে তাঁর অভীষ্ট লাভে সমর্থ হন। এই সূত্র থেকেই উপন্যাসটির নাম 'ট্যালিসম্যান'।
Read more